
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ৯ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এই ক্রয়ের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের পশ্চিম ব্লকের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় কমিটির সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব নাসিমুল গণিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৩টি লটে (প্রতিটি ৩ হাজার মেট্রিক টন) এই মসুর ডাল ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এই ডাল কেনা হচ্ছে।
দরপত্র আহ্বানের পর মোট ৪টি প্রস্তাব জমা পড়ে। সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (TEC) তিনটি রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতাকে চূড়ান্ত করে।
প্রথম লটে ঢাকার প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লি. থেকে প্রতি কেজি ৭৯.৮৯ টাকা দরে ৩ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় লটে রাজশাহীর মেসার্স সালমান খুরশীদ থেকে একই দরে ৩ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনা হবে, যার ব্যয়ও ২৩ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
তৃতীয় লটে একই প্রতিষ্ঠান থেকে কিছুটা বেশি দরে (প্রতি কেজি ৮১.৯৯ টাকা) আরও ৩ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনা হবে, যার ব্যয় ২৪ কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে ৯ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭২ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। ক্রয় কমিটি এ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।
সরকারের খাদ্য সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই মসুর ডাল টিসিবির মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে বলে জানা গেছে। চলতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে মসুর ডাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৬ মেট্রিক টন সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশীয় চাহিদা বিবেচনায় এই ধরনের খাদ্যপণ্য ক্রয় সরকারকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। তবে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, টিসিবির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মসুর ডাল ক্রয়ের এই সিদ্ধান্ত সরকারের চলমান খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।