
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় টানা কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২৬ এপ্রিল ভোর থেকে ২৯ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত বয়ে যাওয়া এই ঝড়ের কারণে গ্রামাঞ্চলের ঘরবাড়ি, গাছপালা এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান ও ভুট্টার ক্ষেত।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, হঠাৎ দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে মাঠের পর মাঠ ফসল তলিয়ে গেছে বা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় পাকা ধান কাটার আগেই পানির নিচে চলে গেছে, আবার কিছু জমিতে ধান ও ভুট্টা ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলার শওগুনখোলা গ্রামের কৃষক আতোয়ার রহমান জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। ধান প্রায় পেকে গেলেও টানা বৃষ্টির কারণে তা কাটতে পারছেন না। জমিতে পানি জমে থাকায় তিনি বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তার মতে, আগে খাল দিয়ে দ্রুত পানি নামলেও এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার বলগাড়ি গ্রামের কৃষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, ঝড়ের সময় অনেক কৃষক ভুট্টা ঘরে তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে ভিজে গিয়ে বিপুল পরিমাণ ভুট্টা নষ্ট হয়ে গেছে। মাঠে থাকা বোরো ধানও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই উপজেলার পালশা ইউনিয়নের আমড়া গ্রামের কৃষক মো. নাদিরুল ইসলাম বলেন, মাঠে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বোরো ধানের ক্ষতি আরও বেড়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে ফসল পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার পথে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল ও নালা সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, যা এবার ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান জানান, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৯,১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং ১,৯০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে এসব ফসলের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ শুরু করেছেন। কতটুকু জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার সঠিক হিসাব প্রস্তুত করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ফসল উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে দিনাজপুরের এই অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় শুধু ফসল নয়, কৃষকের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেও বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। এখন কৃষকদের একমাত্র প্রত্যাশা—সরকারি সহায়তা ও দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ।