
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য ধ্বংস করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে বন্দরের কাস্টমস কম্পাউন্ড এলাকায় এসব পণ্য মাটিচাপা দিয়ে বিনষ্ট করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কাস্টমস, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ধ্বংস করা পণ্যের মধ্যে ছিল আতশবাজি, জরদা, সিগারেট, কসমেটিকস, পোশাকসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন থেকে চার কোটি টাকা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। এগুলো মূলত অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস গুদামে সংরক্ষিত থাকার পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধ্বংস কমিটির উপস্থিতিতে এসব পণ্য বিনষ্ট করা হয়। ধ্বংস কার্যক্রমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয় রাখা হয়।
আখাউড়া কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. আতিকুর রহমান জানান, ধ্বংস করা পণ্যের বড় অংশই আমদানি নিষিদ্ধ অথবা ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। এর মধ্যে কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যও পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী জব্দকৃত অবৈধ পণ্য দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে করে বাজারে এসব পণ্যের অবৈধ প্রবেশের সুযোগ আর থাকছে না।”
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, চোরাচালান রোধ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে চলবে। অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। তবে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এসব অবৈধ পণ্য জব্দ ও ধ্বংসের ফলে চোরাচালান কার্যক্রম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসছে।
এ ধরনের অভিযান স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও সতর্কতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈধ পথে আমদানি-রপ্তানি নিশ্চিত করতে এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে কাস্টমসের এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে, আখাউড়া স্থলবন্দরে কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পণ্য ধ্বংসের এই ঘটনা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও চোরাচালান প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানকেই তুলে ধরছে।