
বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
সংসদে বিরোধী দলীয় এক সদস্যের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে করা মন্তব্যের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে এখন আর পেট্রোলের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না এবং লোডশেডিংও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তার ভাষায়, “পেট্রোলের লাইন আর নাই, লোডশেডিংও কমে গেছে।”
মন্ত্রী জানান, জ্বালানি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি আগামী রবিবার বৈঠকে বসবে এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করবে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জ্বালানি খাতে চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা সত্ত্বেও দেশে সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থায়ও উন্নয়ন ঘটছে, যার ফলে গ্রাহক পর্যায়ে লোডশেডিং কম অনুভূত হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাবে কিনা, তা নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ স্থিতিশীলতা ও মূল্য পরিস্থিতির ওপর।
এদিকে সংসদে মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল।
সরকারি পক্ষ বলছে, ধাপে ধাপে উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে জ্বালানি খাতে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ এখনো কিছু এলাকায় লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটের অভিযোগ তুলছে।
সব মিলিয়ে সংসদে জ্বালানিমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।