
প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি নতুন সরকারি বাসভবন নির্মাণ বা নির্ধারণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল এ রিটটি সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করেন।
রিটে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রিট আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের পর সাবেক সরকারি বাসভবন গণভবন-কে একটি পাবলিক জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের জন্য নতুন কোনো সরকারি বাসভবন নির্ধারণ, নির্মাণ বা সংস্কারের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রিটে দাবি করা হয়, সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাসম্পন্ন বাসভবন থাকা রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এ ধরনের বাসভবন নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ।
আবেদনে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রশাসনিক অগ্রগতির ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নির্ধারিত সরকারি বাসভবন থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল বলেন, বিষয়টি জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে রিটের শুনানি হতে পারে।
রিটে আরও বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়, যা নাগরিকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন রিট সাধারণত জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে করা হয়ে থাকে। আদালত বিষয়টি শুনানি শেষে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারেন।
এদিকে সরকারি পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন সরকারি বাসভবন নির্মাণ বা নির্ধারণের বিষয়টি এখন আদালতের আলোচনায় এসেছে, যা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।