
ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-ফুলপুর সড়কের আলালপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা একটি যাত্রীবাহী সিএনজিতে করে ফুলপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে আলালপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে তাদের সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার কাজে সহায়তা করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। পরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের নাম-পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ময়মনসিংহ-ফুলপুর রুটে ছোট যানবাহন ও দ্রুতগামী পিকআপ চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এবারের দুর্ঘটনা সবচেয়ে মর্মান্তিক, কারণ এতে একই পরিবারের দুই সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সিএনজিটি স্বাভাবিক গতিতে চলছিল, কিন্তু বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপটি দ্রুতগতিতে আসার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পর সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত বাবা-ছেলের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ছোট যানবাহন ও ভারী যানবাহনের অসতর্ক চলাচলের কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে নজরদারি বাড়ানো না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো কঠিন।
আলালপুরের এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই সড়ক আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।