
বিতর্কিত কোহিনূর হিরা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। এবার এই দাবি তুলতে পারেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি জানিয়েছেন, ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ পেলে তিনি এই হিরা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানাবেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামদানি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যদি আলাদা করে রাজার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাই, আমি কোহিনূর ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানাব।”
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ৯/১১ হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে এ কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা উপস্থিত ছিলেন।
তবে রাজার সঙ্গে তার আলোচনায় কোহিনূর প্রসঙ্গ সত্যিই উঠেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
কোহিনূর হিরা দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাস ও রাজনীতির বিতর্কিত প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত মূল্যবান একটি হিরা, যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শাসকের হাতে ঘুরেছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, হিরাটি ভারতের গোলকোন্ডা খনি থেকে উত্তোলিত হয়। এর নাম পারস্য ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ “আলোর পর্বত”। প্রথম দিকে এর ওজন ছিল প্রায় ১৮৬ ক্যারেট।
পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট, পারস্যের শাসক, আফগান রাজা এবং শিখ শাসকদের হাতে এটি ছিল। ১৮৪৯ সালে শিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা এটি দখল করে নেয়। তখন ১০ বছর বয়সী শিখ শাসক দুলীপ সিংয়ের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারে যুক্ত হয়।
বর্তমানে হিরাটি ১০৫ ক্যারেটের এবং এটি যুক্তরাজ্যের ক্রাউন জুয়েলসের অংশ। এটি প্রয়াত রানি এলিজাবেথ দ্য কুইন মাদারের মুকুটে সংযোজিত রয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে এটি নিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। ভারত সরকার বহুবার কোহিনূর ফেরত চেয়েছে, এটিকে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে।
তবে ২০১৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন স্পষ্টভাবে জানান, কোহিনূর ফেরত দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, এটি ব্রিটিশ ইতিহাস ও রাজকীয় ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে।
বর্তমানে রাজা তৃতীয় চার্লসের সময়েও কোহিনূর নিয়ে আলোচনা আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মন্তব্য এই বিতর্ককে আরও উসকে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোহিনূর শুধু একটি হিরা নয়, বরং ঔপনিবেশিক ইতিহাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি জটিল প্রতীক।
সব মিলিয়ে, জোহরান মামদানি-এর এই মন্তব্য কোহিনূর বিতর্ককে আবারও বিশ্ব রাজনীতির আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে।