
দেশজুড়ে আবারও শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের আটটি বিভাগেই বিচ্ছিন্নভাবে ঝড়-বজ্রসহ দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, দেশের রংপুর, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং সিলেট—সব বিভাগেই এই ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে দমকা হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এই ঝড় বিচ্ছিন্নভাবে হলেও বিভিন্ন এলাকায় এর তীব্রতা বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হতে পারে, যা ফসল ও জনজীবনে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশে সাধারণত গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখী ঝড় বেশি দেখা যায়। এই সময় হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কখনো কখনো এই ঝড় এতটাই শক্তিশালী হয় যে গাছপালা উপড়ে পড়ে, কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঝড়ের তীব্রতা ও অনিয়মিত আচরণ বাড়ছে। ফলে আগাম সতর্কতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় থাকা, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বা বজ্রপাতের সময় বাইরে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষকদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ এই সময় ধানসহ মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি নৌ ও নদীপথে চলাচলকারীদেরও সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বৈদ্যুতিক ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঝড় পরিস্থিতি আগামী দুই দিন সক্রিয় থাকতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন এই ৪৮ ঘণ্টা দেশের জন্য আবহাওয়ার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।