
দীর্ঘ ১০ দিনের অচলাবস্থার পর অবশেষে স্বাভাবিকতার পথে ফিরছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ায় দ্রুত ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ফলে পুরো ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। কর্মবিরতি ও পরবর্তীতে শাটডাউন কর্মসূচির কারণে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে এবং সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ২৮ এপ্রিল শিক্ষকরা সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
চলমান সংকট নিরসনে ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকেই সংকট সমাধানের পথ তৈরি হয়।
আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ থাকা ক্লাস ও পরীক্ষা দ্রুত পুনরায় শুরু করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, তারা প্রায় দুই বছর ধরে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন আমরণ অনশনে যান। ২৩ ঘণ্টা অনশনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি অনশন ভাঙেন, তবে আন্দোলন চলমান থাকে।
পরবর্তীতে শিক্ষকরা কর্মবিরতি ও শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
প্রকৌশল অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক রাহাত হোসেন ফয়সাল জানান, বিভাগীয় কমিশনার ও উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে তাদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশ্বাস পাওয়া গেছে। দ্রুত পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ও সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যেতে আগ্রহী, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম জানান, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে এবং শিক্ষকদের সমস্যাগুলো সিন্ডিকেট সভায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
এদিকে বিভাগীয় কমিশনার জানান, দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার আলোকে সমাধান করা হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)-এ পাঠানো হবে।
এই সমঝোতায় স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তারা আশা করছেন, দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হলে সেশনজটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই কমে আসবে।
সব মিলিয়ে, আলোচনার মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।