
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবিরের বাসায় সংঘটিত ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাতে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এবং কেরানীগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
জানা যায়, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোররাতে পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হুমায়ুন কবিরের বাসায় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল গ্রিল কেটে প্রবেশ করে। ৫-৬ সদস্যের ওই দলটি পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চোখ ও হাত বেঁধে ফেলে। এরপর তারা ঘর থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা এবং অন্তত ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
ফজরের আজানের সময় ডাকাতদলটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন মো. হালিম ওরফে বোচা হালিম (৫২), মো. শাহিন খাঁ (৪২) এবং মো. নয়ন (৩২)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে প্রথমে হালিম ও শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকার ছায়ানীড় মার্কেট সংলগ্ন একটি স্বর্ণালংকারের দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় ভরি আট আনা স্বর্ণালংকারসহ নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হুমায়ুন কবিরের বাসার পাশের একটি ডোবা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি কার্টার উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মোট পরিমাণ প্রায় ছয় ভরি আট আনা, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, ডাকাতির ঘটনার পর থেকেই পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহায়তায় চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও পুরো চক্রকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তদন্ত চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।