
নিরাপত্তা জোরদার করতে চীনের রাজধানী বেইজিং-এ ড্রোন ব্যবহারে নতুন ও কঠোর বিধি-নিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে শহরটিতে ড্রোন বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে এবং নির্ধারিত নিয়ম ছাড়া ড্রোন উড়ানো যাবে না।
নতুন এই বিধি আগামীকাল শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিয়ম অনুযায়ী, বেইজিংয়ের ভেতরে কোনো ধরনের ড্রোন বা এর যন্ত্রাংশ বিক্রি, আনা বা পরিবহন করা যাবে না। একই সঙ্গে ড্রোন মালিকদের তাদের ডিভাইস পুলিশের কাছে নিবন্ধন করতে হবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চীন তার আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে। গত কয়েক বছর ধরেই দেশটি ড্রোন ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে।
চীনে ড্রোন এখন শুধু শখ বা বিনোদনের জন্য নয়, বরং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে খাবার ডেলিভারি, কৃষিকাজ, অবকাঠামো পরিদর্শন এবং ভবন পরিষ্কারের মতো কাজে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি “লো-অল্টিটিউড ইকোনমি” নামে পরিচিত একটি নতুন অর্থনৈতিক খাত গড়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে বড় আয়ের উৎস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বেইজিংয়ে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ড্রোন ব্যবহার এখন আরও জটিল ও নিয়ন্ত্রিত হবে। ড্রোন আনা-নেওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। এমনকি মেরামতের জন্য বাইরে পাঠানো ড্রোনও সরাসরি ডেলিভারির মাধ্যমে আনা যাবে না—মালিককে নিজে গিয়ে সংগ্রহ করতে হবে।
সব ধরনের আউটডোর ড্রোন উড্ডয়নের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের অনলাইন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। যেমন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উদ্ধার কার্যক্রমে ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে, তবে সেটিও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে।
চীনে ইতোমধ্যে লাখ লাখ ড্রোন নিবন্ধিত রয়েছে এবং দেশটি বৈশ্বিক ড্রোন বাজারে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে এই খাতে চীনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৩০ লাখেরও বেশি ড্রোন নিবন্ধিত রয়েছে। তবে এর বড় অংশ বেসরকারি ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছর থেকেই বেইজিংয়ের পুরো আকাশসীমাকে ড্রোন-নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন নতুন নিয়মের মাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হলো। ড্রোন উড়াতে হলে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠোর বিধি ড্রোন শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের জন্য এটি কিছুটা সীমাবদ্ধতা তৈরি করবে। তবে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বেইজিংয়ের নতুন ড্রোন নীতি চীনের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে নিরাপত্তার ভারসাম্য তৈরির একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।