
রাজধানীর মগবাজারে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের ক্লাস্টার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসির গ্যাস লিকেজসহ পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও তাদের সদ্য জন্ম নেওয়া ছয় শিশুকে রাখা হয়েছিল। শিশুদের বয়স ছিল মাত্র এক থেকে দুই দিন। এক পর্যায়ে এক মা ঠাণ্ডা লাগার কারণে এসি বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে নার্স প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখার পর পুনরায় চালু করা হলে দুই শিশু প্রথমে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে বাকি চার শিশুও সংকটাপন্ন অবস্থায় চলে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় “ক্লাস্টার নিওনেটাল ডেথ” বা “সেন্টিনেল ইভেন্ট” হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যেখানে একই সময়ে একই স্থানে একাধিক রোগীর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় একাধিক সম্ভাব্য কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে একটি নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা কঠিন।
সম্ভাব্য কারণ হিসেবে হাসপাতালের মেডিক্যাল গ্যাস পাইপলাইন ত্রুটি, অক্সিজেন সরবরাহ ঘাটতি, রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিকেজ, কার্বন মনোক্সাইড বা অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস, ভেন্টিলেশন সমস্যা এবং সংক্রমণজনিত জটিলতা উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে নবজাতকদের ক্ষেত্রে অক্সিজেনের সামান্য ঘাটতিও প্রাণঘাতী হতে পারে। কারণ তাদের ফুসফুস ও শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিকশিত থাকে না। ফলে পরিবেশগত যেকোনো পরিবর্তন দ্রুত প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। চিকিৎসা ও প্রকৌশল বিশেষজ্ঞরা এসি সিস্টেম, অক্সিজেন লাইন, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য গ্যাস লিকেজ পরীক্ষা করছেন। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিউটি রোস্টারও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা হিসেবে না দেখে পুরো হাসপাতাল ব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। নিয়মিত মেডিক্যাল গ্যাস অডিট, অক্সিজেন মনিটরিং, ভেন্টিলেশন যাচাই এবং NICU নিরাপত্তা প্রটোকল কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো স্বাস্থ্যখাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।