
রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী-কে আবারও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে তৃতীয় দফায় ১১ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন পুনরায় চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামিকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এজন্য আসামিকে আবারও রিমান্ডে নেওয়া জরুরি বলে তিনি আদালতে আবেদন জানান।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড আবেদন বাতিলের জন্য শুনানি করেন। তিনি যুক্তি তুলে ধরেন যে, আসামিকে ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় রিমান্ডে রাখা হয়েছে, তাই নতুন করে রিমান্ড দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেলোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট-এ এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. লিজা ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর মডেল থানা-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। এরপর থেকে মামলাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এই মামলাটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।