
খাগড়াছড়ি শহরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে এই অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় খাদ্যের মান, রান্নার পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়। এ সময় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম লক্ষ্য করা গেলেও বিশেষ করে একটি হোটেলে গুরুতর স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযান পরিচালনাকারী দল ‘খানা খান্দানি’ নামের একটি হোটেলে গিয়ে দেখতে পায়, রান্নাঘরের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর এবং পরিচ্ছন্নতার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল না, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এই অনিয়মের কারণে হোটেল কর্তৃপক্ষকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই হোটেলকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সতর্ক করে।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দিপক কুমার শীল জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিতভাবে এমন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক সময় ব্যবসায়ীরা সচেতনতার অভাবে বা অবহেলার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন না। তবে এসব ক্ষেত্রে শুধু জরিমানা করাই লক্ষ্য নয়, বরং তাদের সচেতন করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। যাতে তারা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করেন।
তিনি আরও জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫৩ ধারার আওতায় এই জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এবং নিরাপদ খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করে।
অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। অনেককে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবেশ উন্নয়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে খাবারের মান উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।
সব মিলিয়ে, খাগড়াছড়িতে পরিচালিত এই অভিযান জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে।