
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীকে সম্মান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী সদস্যদের স্মরণ করে শান্তিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি।
Description:
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে ৪ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করছেন। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় শান্তিরক্ষীদের নিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি।
বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় শান্তিরক্ষীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার বাণীতে বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশে মোতায়েন থাকা শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, নির্বাচন আয়োজনের সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নিজ দেশ থেকে বহু দূরে থেকেও তারা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
মহাসচিব অতীত ও বর্তমান সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতিও সম্মান জানান। এর মধ্যে গত বছরই ৫৯ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
গুতেরেস বলেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘের মতে, শান্তিরক্ষীদের কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। গুতেরেস বলেন, শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।
দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মরণোত্তর পদক প্রদান এবং বিভিন্ন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা সদস্যদের আত্মত্যাগ ও সেবাকে স্মরণ করা হবে।