
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হাম ও ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং মানবসম্পদ—সব দিক থেকেই বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যক্রম উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের স্বাস্থ্য খাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে যথাযথভাবে অর্থ ব্যয় করা হয়নি। এর ফলে খাতে কিছু কাঠামোগত সমস্যা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “হাম ও ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। ভ্যাকসিনসহ মানবসম্পদে কোনো কিছুরই সংকট নেই।”
তিনি আরও জানান, সরকার ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিতভাবে কাজ করছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এ সময় অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ৬ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের জিন এক্সপার্ট কার্ট্রিজ এবং শিশুদের জন্য ১১ হাজার কোর্সের যক্ষ্মা (টিবি) ওষুধ হস্তান্তর করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে, বিশেষ করে সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন জোরদারের ক্ষেত্রে।
তিনি আরও জানান, যক্ষ্মা শনাক্তকরণ আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ডিজিটাল এক্স-রে, নতুন প্রজন্মের জিন সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি এবং শিশু-বান্ধব ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে, যাতে দেশটি একটি সুস্থ ও শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু ও সংক্রামক রোগ মৌসুমভিত্তিকভাবে বাড়ে। তাই সরকারের সক্ষমতা থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়ন, দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, সরকার একদিকে স্বাস্থ্য খাতে সক্ষমতার দাবি করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত ও চিকিৎসা সহায়তা গ্রহণ করছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।