
বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতীক উপহার হিসেবে প্রদান করেন। এ সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎটি ছিল মূলত সৌজন্যমূলক, যেখানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য প্রার্থনা করেন।
বৌদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ এবং মহাপরিনির্বাণ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মরণে পালিত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুজাতি ও বহুধর্মীয় দেশ, যেখানে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি।
সরকারের পক্ষ থেকেও ধর্মীয় উৎসবগুলোকে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা এ সময় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শুভেচ্ছার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক সামাজিক সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।