
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আট দিনের ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি শহীদ রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে বলে জানানো হয়।
একই দিন সকাল ১১টায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলটির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
এছাড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এসব কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদান ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা বা ভুল ধরিয়ে দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও কোনো ধরনের চক্রান্ত বা অস্থিতিশীলতার রাজনীতি দেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তার সময়েই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দলটির নেতারা আশা করছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও অবদান স্মরণ করবেন। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তাও পৌঁছাবে।
বিএনপি জানিয়েছে, পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হবে এবং এতে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি চলবে আট দিনব্যাপী।