
ঈদুল আজহার পর রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চললেও এখনো অনেক এলাকায় দেখা যাচ্ছে বর্জ্যের স্তূপ, দুর্গন্ধ এবং নোংরা পরিবেশ। ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর পর্যন্ত মিরপুর, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে পশুর নাড়িভুঁড়ি, চামড়া, খুর ও রক্তমাখা বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়।
অনেক জায়গায় ড্রেনের মুখ আটকে গেছে পশুর বর্জ্যে। কোথাও আবার জমে থাকা রক্ত ও ময়লা পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকার ভেতরের ছোট সড়কগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ, যেখানে স্বাভাবিক চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
মগবাজার এলাকার বাসিন্দা সাইফুল রহমান জানান, দুর্গন্ধের কারণে বাসার জানালা খুলতে পারছেন না। ছোট শিশুদের নিয়ে তারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। একইভাবে রামপুরা এলাকায় রাস্তার পাশে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে কুকুর ও মাছির উপদ্রব বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শান্তিনগরের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, বর্জ্য জমে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার মতে, এত বড় শহরে ঈদের পরও যদি এমন অব্যবস্থাপনা থাকে, তাহলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে।
তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঠে থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা জানান, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হওয়ায় পুরো শহর পরিষ্কার করতে সময় লাগছে। পাশাপাশি ঈদের দ্বিতীয় দিনেও বিভিন্ন এলাকায় কোরবানি হওয়ায় নতুন করে বর্জ্য যুক্ত হচ্ছে।
রাজধানীর কিছু অস্থায়ী পশুর হাটের আশপাশেও বর্জ্য ও দুর্গন্ধের সমস্যা দেখা গেছে। বিশেষ করে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের নিচের হাট এলাকায় জমে থাকা রক্ত, ভুঁড়ি ও আবর্জনার কারণে পথচারীদের ভোগান্তি হচ্ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও আবাসিক এলাকায় দ্রুত বর্জ্য অপসারণ না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় দুর্গন্ধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
এর আগে ঈদের দিন থেকেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দেয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হবে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনও দ্রুত পরিষ্কার কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানায়।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদারভাবে চলছে। এদিন ১১ হাজার ৭৭৬ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮১৪ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অতিরিক্ত জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন করা যায়।
সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দের পর রাজধানী এখন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম চললেও পুরো শহরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আরও সময় ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগরবাসী ও সংশ্লিষ্টরা।