
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে টঙ্গীর আমতলী কেরানিরটেক বস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আছাবুর রহমানের নেতৃত্বে ডিবি উত্তর ও দক্ষিণের একটি যৌথ দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে রুনা আক্তারের বাসার সামনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। পরে মাদক কারবারি রওশন আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় আরও কয়েকজন মাদক কারবারি পুলিশকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন মো. আরিফুল ইসলাম, মো. রাকিবুল ইসলাম, নারী সদস্য জাহানারা এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নুরে আলম। আহতদের টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে চারটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে অভিযান চালিয়ে শাহীন, রায়হান, সোহেল, রওশন আরা, সুমি আক্তার, নূরজাহান ও বিউটি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই দিন টঙ্গী পশ্চিম থানার হাজীমাজার বস্তিতে পৃথক আরেকটি অভিযানে আরও ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এলাকায় মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর বিভিন্ন বস্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মাঝে অভিযান হলেও আবারও একই ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়।
পুলিশ বলছে, মাদক নির্মূল করতে তারা আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে টঙ্গীর এই ঘটনা এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।