
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী দুইটি পৃথক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
মামলাগুলো সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে এই দুটি মামলায় আইভীকে জামিন দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে চলমান অন্যান্য মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।
একই সঙ্গে সাবেক এই মেয়রের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী রবিবার (৩ মে) আপিল বিভাগ আদেশ দেবেন বলে জানা গেছে। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আটক করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকেই তিনি একাধিক মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট তাকে পাঁচটি মামলায় জামিন দিলেও সেই আদেশ পরে আপিল বিভাগে স্থগিত হয়ে যায়। এর ফলে আইভীর আইনি জটিলতা আরও দীর্ঘায়িত হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় গত ১৮ নভেম্বর, যখন তার বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি একটি পরিচিত মুখ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মামলায় তার নাম আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তার আইনজীবীরা বলছেন, তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে তারা আশাবাদী।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, মামলাগুলো তদন্তাধীন এবং আদালতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অগ্রসর হচ্ছে।
হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এই রায়ের মাধ্যমে আইভী কিছুটা স্বস্তি পেলেও তার আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। আপিল বিভাগের আসন্ন শুনানিতে তার ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জের এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের মামলা-সংক্রান্ত পরিস্থিতি এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আদালতের সিদ্ধান্ত তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।