
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ৭১ নম্বর গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে চলছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান কার্যক্রম। ভবনের অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একতলা ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মরিচা ধরা রড বের হয়ে এসেছে দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে। পলেস্তারা খসে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে ছাদে। কোথাও কোথাও বাঁশ দিয়ে ছাদের ভাঙা অংশ ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে তা সম্পূর্ণ ভেঙে না পড়ে।
বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে শ্রেণিকক্ষ ভিজে যায়, যার ফলে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যেমন ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৫ সালে। পরে ১৯৬৮ সালে সরকারি উদ্যোগে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এখন ভবনটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস ইতিমধ্যে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও বিকল্প কোনো অবকাঠামো না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ভবনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে তারা স্কুলে আসতে ভয় পায়। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি বা ঝাঁকুনি হলে আতঙ্কে থাকে তারা। কয়েকদিন আগে ক্লাস চলাকালে ছাদের পলেস্তারা ও বৈদ্যুতিক ফ্যান খসে পড়ে, যদিও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
এক শিক্ষার্থী বলে, “আকাশ অন্ধকার হলেই ম্যাডাম আমাদের ছুটি দিয়ে দেন, আমরা ভয় পাই।” অন্য শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের আতঙ্কের কথা জানায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভূমিকম্পের সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিভাবকরা ছুটে আসেন স্কুলে। তাদের দাবি, এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু শ্রেণিকক্ষের বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই এখানে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক শাহনাজ আক্তার জানান, বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে স্কুলে আসছে না। অভিভাবকরাও সন্তানদের পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, “ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরও কমে গেছে। এখন কার্যত শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধের মতো অবস্থা।”
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবগত করা হয়েছে এবং শিগগিরই নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা শিশুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।