
বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ভারত সীমান্তে মানুষের ভিড় বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গাজী আতাউর। শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন এবং বিষয়টিকে মানবিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে গাজী আতাউর দাবি করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে সেখানে ধর্মীয় বিদ্বেষ বেড়েছে। তার অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের অনেকেই দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন, যা সীমান্তে চাপ সৃষ্টি করছে। সভ্যতার এই সময়ে জাতিগত বিদ্বেষ ও মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার মতো ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গাজী আতাউর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের আগে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের অনেক অঞ্চল একই দেশের অংশ ছিল। দেশভাগের পরও দুই পাশে এমন অসংখ্য পরিবার রয়েছে, যাদের শিকড় অন্য পাশে রয়ে গেছে। তাই শুধুমাত্র অতীতের ঠিকানা বা পরিচয়ের অজুহাতে মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ নয়, বরং তা অমানবিক।
এ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার এই ধরনের নীতি অনুসরণ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের এই মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরা জরুরি। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে প্রতিবেশী দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যেন এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, Rohingya জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। নতুন করে আরেকটি উদ্বাস্তু সংকট মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা দেশের নেই। তাই এই বিষয়ে দ্রুত আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি সহানুভূতি দেখানো জরুরি, তবে একই সঙ্গে একটি দেশের সামর্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
সবশেষে, গাজী আতাউর সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান এবং বলেন, ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট এড়াতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান, যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে না যায়।