
ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধনের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি ও সমমানের সনদ বাধ্যতামূলকভাবে ডাটাবেজে সংযুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষিতদের ক্ষেত্রেও এসএসসি সনদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এটি দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটার নিবন্ধনের পর জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে অনেক সময় জন্ম তারিখ ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করতে গিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য এসএসসি ও সমমানের সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইসির ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মাধ্যমিক বা তার উপরের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এসএসসি সনদ ডাটাবেজে সংযুক্ত করছে না। ফলে পরে এনআইডি সংশোধনের সময় তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা নিজেদের শিক্ষাগত তথ্য অস্বীকার করেন, ফলে সংশোধন প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তা ও আবেদনকারীর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এতে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে—যদি কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি মাধ্যমিক বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন হন, তাহলে তার এসএসসি ও সমমানের সনদ ডাটাবেজে অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে।
এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি বা সমমানের ডিগ্রিধারী হন, তাহলেও তার এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদও নিবন্ধন ফরম, জন্ম সনদসহ অন্যান্য নথির সঙ্গে হার্ড কপি আকারে সংরক্ষণ করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা নির্বাচন অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন এবং দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে এসব কার্যক্রম মনিটরিং করবেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভোটার ডাটাবেজের স্বচ্ছতা ও তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমানো এবং জাল তথ্য প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন। বিশেষ করে পুরোনো ভোটারদের ক্ষেত্রে সনদ সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই নতুন নির্দেশনা ভোটার নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও তথ্যনির্ভর করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, তা মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করবে।