
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ঘিরে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে ব্যাপকভাবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চয়তা এবং কৌশলগত জলপথ Hormuz Strait-এ জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগই মূলত বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা হয়েছে। তবে এই চুক্তি কার্যকর হতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ দাবি করেছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভ্রান্তির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে। শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড ও WTI ক্রুডের দাম এক লাফে ২ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এর পেছনে মূল কারণ ছিল সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি। বিশেষ করে বন্দর আব্বাস এলাকায় হামলার জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা বাজারে আতঙ্ক তৈরি করে।
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সম্ভাব্য খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারে উল্টো প্রবণতা দেখা দেয়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৮ ডলার থেকে নেমে ৯৩ ডলারের কাছাকাছি চলে আসে। একইভাবে WTI ক্রুডের দামও কমে যায় উল্লেখযোগ্য হারে। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বাজারে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান রিটারবুশ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস জানিয়েছে, ইরান সংক্রান্ত যেকোনো যুদ্ধংদেহী খবরই তেলের বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ থাকা নিয়ে যেকোনো ইঙ্গিতই সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলছে। কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং তা বিশ্ববাজারে দাম অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আরও কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। একই সময়ে WTI ক্রুডও পতনের ধারায় রয়েছে। তবে দিনের বিভিন্ন সময়ে ওঠানামা অব্যাহত থাকায় বাজার পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টেকসই সমঝোতা হয় এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্য চলাচল ফিরে আসে, তাহলে তেলের দাম স্থিতিশীল হতে পারে। তবে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।