
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বন্দরকেন্দ্রিক অফডক বা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলোর চার্জ বৃদ্ধির কারণে। Chattogram কেন্দ্রিক এসব ডিপো তাদের হ্যান্ডলিং ও পরিবহন চার্জ আরও সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে, যা গত চার মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বৃদ্ধি।
ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, এই নতুন চার্জ বৃদ্ধির ফলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি। এতে দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং আমদানি পণ্যের খরচও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ২১টি বেসরকারি অফডক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব ডিপোতে বছরে তিন লাখের বেশি আমদানি কনটেইনার এবং প্রায় সাড়ে সাত লাখ রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। সমুদ্রবন্দরের বাইরে অবস্থিত এই ডিপোগুলোতে পণ্য লোডিং-আনলোডিং, সংরক্ষণ এবং শুল্কায়নের কাজ সম্পন্ন হয়, যা দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। এর পরপরই অফডকগুলো তাদের সেবামূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
Bangladesh Inland Container Depots Association-এর মহাসচিব Ruhul Amin Biplob বলেন, ডিপোগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিজেল ব্যবহার হয়। প্রতিদিন গড়ে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়, যা লরি পরিবহন এবং ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে এই অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয় করা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
তবে ব্যবসায়ীরা এ যুক্তি মেনে নিতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার চার্জ বাড়ানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, বিভিন্ন খাতে ইচ্ছামতো চার্জ বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
Bangladesh Freight Forwarders Association-এর সহসভাপতি Khairul Alam Sujon ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছুদিন আগেই ২০ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তার কিছুদিন পরই আবার সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, লজিস্টিক খাতে এই ব্যয় বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। কারণ আমদানি পণ্যের খরচ বাড়লে তা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর চাপ হিসেবে পড়বে। এতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া রপ্তানিকারকদের জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে কম খরচে পণ্য সরবরাহ করা জরুরি। কিন্তু বারবার খরচ বৃদ্ধি পেলে সেই সক্ষমতা কমে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী নেতারা ডিপো চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বাণিজ্য খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
সব মিলিয়ে, অফডক চার্জ বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শুধু ব্যবসায়ী নয়, সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়েও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।