
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে অভিনব কৌশলে ৫ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় আন্তঃজেলা নারী চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৭ বছরের এক শিশুকেও আইনের আওতায় আনা হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ মার্চ, বড়লেখার শাহবাজপুর বাজারের ‘রাসেল ভ্যারাইটিজ স্টোর’-এ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোরকা পরিহিত দুই নারী প্রথমে ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করেন। তারা বিভিন্ন মালামাল কেনার কথা বলে দোকান মালিককে ব্যস্ত রাখেন। এই সময় তাদের সঙ্গে থাকা ৭ বছরের শিশুটি ক্যাশবাক্সের কাছে গিয়ে সুযোগ বুঝে ৫ লাখ টাকা নিয়ে নেয়।
চুরির পরপরই চক্রটি দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ে। বিষয়টি প্রথমে দোকান মালিক বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে হিসাব মিলিয়ে ক্যাশে বড় অঙ্কের ঘাটতি ধরা পড়ে। এরপর দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হলে পুরো চুরির ঘটনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফুটেজে দেখা যায়, পরিকল্পিতভাবে দুই নারী দোকানিকে ব্যস্ত রেখে শিশুটির মাধ্যমে টাকা চুরি করান।
ঘটনার তদন্তে নেমে বড়লেখা থানা পুলিশ বিভিন্ন প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে চক্রটিকে শনাক্ত করে। পরবর্তীতে সিলেটের সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানা পুলিশের সহায়তায় চক্রের মূলহোতা স্মৃতি রানি শাহজি ওরফে স্মৃতি বেগম (৩১)–কে আটক করা হয়। তার সঙ্গে ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত শিশুটিকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে স্মৃতির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান চালানো হয়। বুধবার ভোরে দক্ষিণ সুরমার ওমর কবুল কাশবন এলাকা থেকে তার সহযোগী শানু বেগম (৩৮)–কে গ্রেপ্তার করে বড়লেখা থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারী আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বিভিন্ন ব্যস্ত বাজার ও দোকানে ক্রেতা সেজে চুরির ঘটনা ঘটাতেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ছিল। তারা ভিড়ভাট্টা ও ব্যস্ত বাজারকে লক্ষ্য করে এমন পরিকল্পিত কৌশলে চুরি করত, যাতে সাধারণভাবে সন্দেহের বাইরে থাকতে পারে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় চুরির মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনায় জড়িত ৭ বছরের শিশুটিকে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী আদালতের নির্দেশে প্রবেশন অফিসার ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার পরামর্শে তার নানির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন করানো চক্রটির একটি সুপরিকল্পিত কৌশল ছিল।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরো চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও পুলিশ জানিয়েছে, এমন চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।