
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের মধ্যেও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)। ঈদের দিন সকাল থেকেই নগরজুড়ে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন।
শুধু দপ্তরে বসে তদারকি নয়, তিনি স্বশরীরে বর্জ্যবাহী গাড়িতে চড়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করেন। প্রশাসকের এই সরাসরি অংশগ্রহণ নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
Narayanganj City Corporation সূত্র জানায়, ঈদের দিন সকাল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নগরীর তিনটি অঞ্চলে প্রায় ৬০০ টন কোরবানির বর্জ্য মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হয়। এ কাজে ব্যবহৃত হয় প্রায় ৮০টি ট্রাক, ভেকু ও বিপুলসংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
ঈদের সময় সাধারণত নগরীতে কোরবানির বর্জ্য জমে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে এবার দ্রুত ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে নগরবাসী স্বস্তি পেয়েছে। চাষাঢ়া, দেওভোগ, খানপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়।
অনেক এলাকায় ট্রাকে করে বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, আবার কোথাও ভেকু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়। পুরো কার্যক্রম প্রশাসক নিজে সরাসরি তদারকি করেন, যা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আরও উৎসাহিত করে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মাঠে দেখে তারা আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এতে কাজের গতি ও সমন্বয় দুটোই বেড়েছে।
এ বিষয়ে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগরী গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ঈদে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। সবাই সচেতন হলে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দারাও নাসিকের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।