
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর Bengaluru-তে একটি হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ধসে অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বুধবার সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন শিশু এবং ফুটপাতের কয়েকজন দোকানিও রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে শহরের পরিচিত Bowring and Lady Curzon Hospital-এর সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ার ফলে। প্রায় ৮ ফুট উঁচু ওই দেয়াল হঠাৎ ভেঙে পড়ে আশপাশে থাকা মানুষদের ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং অনেকে গুরুতর আহত হন।
সংবাদ সংস্থা Reuters স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন, যাদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্ণাটক রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী D. K. Shivakumar এক বিবৃতিতে জানান, নিহতদের মধ্যে একজন শিশু এবং চারজন ফুটপাতের দোকানি রয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় তারা দেয়ালের পাশে অবস্থান করছিলেন, ফলে দেয়াল ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা চাপা পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে আশপাশের মানুষজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেয়ালটি ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে পড়েন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
আহতদের মধ্যে একজন নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দেয়াল ধসের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা বা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের পুরনো অবকাঠামো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নিয়মিত পরিদর্শন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সব মিলিয়ে, বেঙ্গালুরুতে হাসপাতালের দেয়াল ধসের এই ঘটনা আবারও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে।