
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাশিয়া। নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকা থেকে তালেবানকে বাদ দেওয়ার এক বছর পর এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে নতুন কৌশলগত সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার (২৭ মে) মস্কোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফোরামে রাশিয়া ও আফগানিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফোরামের সাইডলাইনে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এবং আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুবের মধ্যে বৈঠকের পর চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। তিনি পারস্পরিক সহযোগিতাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি সের্গেই শোইগু পশ্চিমা দেশগুলোর আফগান নীতির সমালোচনা করেন। তিনি আফগানিস্তানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে দেশটির ফ্রিজ করা সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের দায়িত্ব পশ্চিমা দেশগুলোকেই বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আক্রমণের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন বৈরী ছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান আক্রমণ এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের জটিলতা আরও বাড়ে।
রাশিয়া ২০০৩ সাল থেকে তালেবানকে নিষিদ্ধ তালিকায় রাখলেও ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাদের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেয়। একই বছরের জুলাইয়ে রাশিয়া তালেবানকে বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক চুক্তি মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।