
দেশের সোনার বাজারে টানা পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তিন দফায় মোট ৭ হাজার ৭০০ টাকা কমানো হয়েছে সোনার দাম, যা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।
নতুন এই দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক ঘোষণায় প্রতি ভরিতে আরও ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার পাশাপাশি ২১ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) একই পরিমাণ অর্থাৎ ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল সোনার দাম। আর তারও আগে গত ২৩ এপ্রিল এক ঘোষণায় প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়। ফলে এই তিন দফা মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে মোট ৭ হাজার ৭০০ টাকা কমেছে সোনার দাম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং দেশীয় বাজারে চাহিদা-সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই মূল্য সমন্বয় করা হয়। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে বা স্থিতিশীল থাকে, তখন তার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিয়োগ প্রবণতার পরিবর্তনের কারণে সোনার দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। এরই প্রভাবে দেশীয় বাজারেও দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু আন্তর্জাতিক বাজার নয়, স্থানীয়ভাবে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা, আমদানি ব্যয়, কর কাঠামো এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধিও সোনার দামের ওপর প্রভাব ফেলে।
সাধারণত বিয়ে বা উৎসবের মৌসুমে সোনার চাহিদা বেড়ে যায়, তখন দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে দাম কমায় ক্রেতাদের আগ্রহ কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সোনার দামের সঙ্গে সঙ্গে মেকিং চার্জ বা গহনা তৈরির খরচ আলাদা করে যুক্ত হয়। ফলে দোকানভেদে গহনার চূড়ান্ত মূল্য কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সোনার বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর। যদি বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আরও কিছুদিন দাম কম বা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে টানা তিন দফায় সোনার দাম কমা দেশের স্বর্ণ বাজারে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন হিসাব-নিকাশের সুযোগ তৈরি করেছে।