
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে এগোলেও স্পর্শকাতর কিছু ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
JD Vance জানিয়েছেন, চুক্তি প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে এবং তারা “চুক্তির খুব কাছাকাছি” অবস্থানে রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত চুক্তির প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে সংলাপ শুরু করা। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করুক এবং বিদ্যমান মজুত সরিয়ে ফেলুক, যাতে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত না হয়।
এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে, যাতে দেশটি আবারও তেল রপ্তানিতে ফিরতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার জন্য মাইন অপসারণের মতো পদক্ষেপও চুক্তির অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণই এই আলোচনার সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী।
চলমান পরিস্থিতিতে উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এসব দাবি অস্বীকার করেছে।
সব মিলিয়ে, চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতে, শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।