
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট মার্কিন কংগ্রেসের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, মোট ব্যয়ের বড় অংশই গোলাবারুদ সংগ্রহে খরচ হয়েছে।
এ তথ্য প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধ ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব জানার দাবি উঠছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে একাধিক বিমানবাহী রণতরীও রয়েছে।
এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে।
বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের ওপর পড়ছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে এ যুদ্ধে দেশটির ভূমিকার প্রতি জনসমর্থন কমে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন করে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।