
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত বৈলাজান কোরবানির মাঠে এবারও পালিত হয়েছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এক অনন্য ঐতিহ্য। সবুজ বৃক্ষে ঘেরা বিশাল এই মাঠে শত শত মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় কোরবানির পশু জবাই ও সমবন্টনের আয়োজন।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, Mymensingh জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বৈলাজান মধ্যপাড়া এলাকায় পঞ্চায়েত প্রথার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এই কোরবানির ব্যবস্থা। এখানে দুটি ঈদগাহ ও সাতটি মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সমবায়ভিত্তিক কোরবানির ঐতিহ্য, যা স্থানীয়ভাবে “বৈলাজান কোরবানির মাঠ” নামে পরিচিত।
ঈদের দিন সকাল ৯টায় ঈদুল আজহার নামাজ শেষে শুরু হয় কোরবানির পশু জবাই। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই কার্যক্রম। এ বছর এখানে ১১৭টি খাসি ও ৮২টি গরু কোরবানি করা হয়েছে। প্রতিটি পশু কোরবানির পর নির্দিষ্ট অংশ সংগ্রহ করে সমানভাবে বণ্টনের জন্য রাখা হয়।
পঞ্চায়েত প্রথা অনুযায়ী, প্রতিটি পশুর মাংস তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এক ভাগ জমা রাখা হয় সমবণ্টনের জন্য, যা পরে গ্রামের প্রায় ১,৭৬০টি খানা অনুযায়ী সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবার প্রায় সমান পরিমাণ মাংস পায়—গরুর ক্ষেত্রে প্রায় ২ কেজি ৪০০ গ্রাম এবং খাসির ক্ষেত্রে প্রায় ২২৫ গ্রাম করে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস কাটা ও বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন। এতে করে পুরো গ্রাম একসঙ্গে একটি সংগঠিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে।
কোরবানির মাঠ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবলু জানান, দীর্ঘ প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই প্রথা চলে আসছে, যা গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।
ঈদের দিনে মাঠজুড়ে বসে ছোট ছোট দোকানও, যেখানে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলনা ও মনোহারি পণ্যের আয়োজন থাকে। ফলে কোরবানির পাশাপাশি এটি একটি সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন শুধু ধর্মীয় রীতি নয়, বরং গ্রামীণ সমাজে সমতা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।