
কুমিল্লায় কোরবানির চামড়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আড়ৎদার ও সিন্ডিকেটের প্রভাবে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই হতাশ হয়ে রাস্তায় ফেলে বাড়ি ফিরে গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।
সরেজমিনে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছায়কোট, হারং ও এতবারপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মধ্যরাত পর্যন্ত মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করছেন। সন্ধ্যা থেকে রাত গভীর হলেও আড়ৎদার বা বড় ক্রেতারা এলাকায় না আসায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৩০ থেকে ৭০টি পর্যন্ত চামড়া কিনেছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বিক্রি করতে না পেরে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন। অনেকেই শেষ পর্যন্ত চামড়া রাস্তায় ফেলে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন।
একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, তিনি প্রতি চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনলেও ক্রেতারা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দাম বলেছে। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার উপস্থিতি একেবারেই কমে যায়, ফলে বিক্রি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়ৎদারদের একটি প্রভাবশালী চক্র বা সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে এমন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তারা আরও জানান, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কেউ আর মৌসুমি চামড়া সংগ্রহে আগ্রহী হবে না।
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লা মহানগরীসহ ১৭টি উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ পশু কোরবানি হওয়ার কথা ছিল। তবে বৃহস্পতিবার রাত ২টা পর্যন্ত তার অর্ধেক চামড়াও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় চামড়া বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।