
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা Biman Bangladesh Airlines বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বড় ধরনের একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing-এর কাছ থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানটি রাজধানীর InterContinental Dhaka-এ অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বিমান চলাচল খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
বিমানের পক্ষ থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও Kaizar Sohel Ahmed এবং বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করবেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা।
এই চুক্তিকে বিমানের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা) এই উড়োজাহাজগুলো কেনা হবে।
চুক্তির আওতায় যে উড়োজাহাজগুলো কেনা হবে, তার মধ্যে রয়েছে—
ড্রিমলাইনার সিরিজের উড়োজাহাজগুলো মূলত দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে এসব বিমান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেটগুলো আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মেটানো এবং আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এসব উড়োজাহাজ জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বড় অর্ডারটি নিয়ে গত তিন বছর ধরে Airbus এবং বোয়িংয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস বাংলাদেশের বহরে বৈচিত্র্য আনার প্রস্তাব দিয়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বোয়িংই এই চুক্তি পেতে সক্ষম হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron-এর বাংলাদেশ সফরের সময় এয়ারবাসের পক্ষে জোরালো প্রচেষ্টা দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত বোয়িংয়ের প্রস্তাবই চূড়ান্ত হয়।
সব মিলিয়ে, বিমানের এই বৃহৎ বিনিয়োগ দেশের বিমান চলাচল খাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বহর আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতা বাড়বে, যাত্রীসেবা উন্নত হবে এবং দেশের বিমান খাত আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।