
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দঘন সময় এবার অনেক পরিবারের জন্য পরিণত হয়েছে শোকে। দেশের বিভিন্ন জেলায় গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ঘটে যাওয়া একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। নিহতদের মধ্যে শিশু, কিশোর, তরুণ এবং নারীও রয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রাণ হারানোদের মধ্যে ১১ জনই ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী।
সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায়। সেখানে মোটরসাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু, এক নারী এবং তিনজন পুরুষ রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন।
এ ছাড়া ফরিদপুর, নরসিংদী, পটুয়াখালী, নড়াইল ও কুষ্টিয়ায় পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নয়জন নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালীতে ঈদের নামাজ শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই কিশোর। নরসিংদীতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুই তরুণ। ফরিদপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজন মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নড়াইলে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত হন।
দিনাজপুরে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে অটোরিকশা ধাক্কা দিলে দুই শিশু নিহত হয়। মাদারীপুরে চলন্ত বাস থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণ হারান এক যাত্রী। গাইবান্ধায় বাসচাপায় ছাত্রলীগ নেতাসহ দুজন নিহত হন। অন্যদিকে চট্টগ্রামে বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং অসতর্কতা দায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সড়কে সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালনায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।
ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা ও ঘোরাঘুরির আনন্দের মাঝেই একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।