
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় জ্বালানি তেল পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। অবৈধভাবে তেল পাচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার (নির্ধারিত সময় অনুযায়ী) বেলা ১১টার দিকে ভুক্তভোগী জনগণের ব্যানারে উপজেলা সদরের মেডিকেল মোড় চৌরাস্তায় ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত। তারা বলেন, এ ধরনের অপরাধ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বক্তারা আরও দাবি করেন, জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মেসার্স ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনের পরিচালক আব্দুল লতিফের ছোট ভাই সাখাওয়াত হোসেন মজু এবং পাম্পের ম্যানেজার রিদয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সোনাজল বিল এলাকার একটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি তেলবাহী ট্যাংক লরি, একটি নসিমন, চারটি ট্রলি এবং দুটি চার্জার ভ্যান জব্দ করা হয়।
অভিযানের সময় ওই ট্যাংক লরিতে প্রায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া যায় বলে উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এভাবে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচার করে আসছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং স্থানীয় বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমন না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
সব মিলিয়ে ভোলাহাটে জ্বালানি তেল পাচারকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন প্রশাসনিক অভিযান চলছে, অন্যদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদও জোরদার হয়েছে।