
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছু ধারা রয়েছে এবং এটি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই দাবি তোলেন। সংসদের ২৪তম কার্যদিবসের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলছিল।
রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অথচ সে সময় দেশে নির্বাচন সামনে ছিল এবং একটি অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, তখন বিভিন্ন মহল থেকে এই চুক্তির বৈধতা ও সময় নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ওই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি এক বৈঠকে আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানি, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা সংসদে বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে, সেই তুলনায় আমেরিকা থেকে আমদানি কম হওয়ায় একটি বড় বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই চুক্তি করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি দাবি করেন, চুক্তিতে এমন কিছু ধারা রয়েছে যা বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই এটি পর্যালোচনা করা এবং নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এই ধরনের চুক্তি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে।
এ সময় তিনি চুক্তিটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের দাবি জানান, যাতে এর শর্তগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যায় এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করা যায়।
তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যের জবাবে বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। তিনি জানান, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী পয়েন্ট অব অর্ডার চলমান কার্যক্রম বা শৃঙ্খলা বিষয়ক হতে হয়, নতুন কোনো বিষয় উত্থাপন নয়।
স্পিকার আরও বলেন, এটি একটি নতুন বিষয় হওয়ায় তিনি তা গ্রহণ করতে পারছেন না। রুমিন ফারহানাকে তিনি নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা যায়।
স্পিকারের বক্তব্যের পরও রুমিন ফারহানা আরও সময় চান এবং চুক্তি বাতিল বা পুনর্বিবেচনার বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করেন। তবে স্পিকার তার অনুরোধ গ্রহণ করেননি এবং বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান।
সব মিলিয়ে সংসদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তির স্বচ্ছতা, সময় এবং শর্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলমান রয়েছে।