
দেশের বিচারাঙ্গনে রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) High Court Division এলাকায় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা অংশ নেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে Supreme Court Bar Association-এর নির্বাচনকে ঘিরে। এর আগে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর তারা এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, বুধবার দুপুরের দিকে হাইকোর্টের এনেক্স ভবনের নিচে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনের আগেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে করে পূর্বনির্ধারিত স্থানটি তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের কর্মসূচি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের অবস্থান কর্মসূচিও চলছিল। সেখানে Sheikh Hasina-এর নামে স্লোগান দিতে শোনা যায় বলে উপস্থিত সূত্রে জানা যায়। ফলে আদালত প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের সমর্থকদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
পরে বিএনপির নবনির্বাচিত আইন সম্পাদক Barrister Badruddoza Badal এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আইনগতভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যদিকে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন করতে না পেরে সেখান থেকে সরে যান।
ঘটনাটি আদালত প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক বিভাজনের একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিচারাঙ্গনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন পরিস্থিতি আইনজীবী মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে এমন উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিভাজন আদালত প্রাঙ্গণে প্রভাব ফেলেছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি বিচার ব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে উভয় পক্ষের অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে হাইকোর্ট এলাকায় সাময়িকভাবে উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাব বিচারাঙ্গনেও বিস্তৃত। পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্ক দৃষ্টি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।