
বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাবে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের নৌ যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করার পর বুধবার সকাল থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে করে সন্দ্বীপ–চট্টগ্রামসহ আশপাশের উপকূলীয় অঞ্চলে জনজীবনে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সকাল থেকেই সন্দ্বীপ ও আশপাশের এলাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে টানা বৃষ্টি দেখা যায়। সমুদ্রও অত্যন্ত উত্তাল অবস্থায় থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন নৌ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁশবাড়িয়া–গুপ্তছড়া নৌরুটে। এই রুটে কোনো ফেরি বা যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল না করায় ঘাটে আটকে পড়ে শত শত যাত্রী ও যানবাহন।
ঘাট সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই কোনো নৌযান না ছাড়ায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে বিপুল সংখ্যক মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন। অনেকে জরুরি কাজে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘাটে এলেও আবহাওয়ার কারণে তারা আটকে পড়েন। বিশেষ করে বিদেশগামী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
এক সৌদিগামী যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে না পারলে তার ফ্লাইট মিস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে একজন প্রসূতি রোগীকে নিয়ে জরুরি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এক ব্যক্তি জানান, নৌযান বন্ধ থাকায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
শুধু যাত্রী নয়, পণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট। বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটে বেশ কিছু পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপ আটকে আছে। এসব যানবাহনে থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমন মালামাল সময়মতো গন্তব্যে না পৌঁছালে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন ব্যবসায়ীরা।
একই পরিস্থিতি দেখা গেছে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ফেরিঘাটেও। সেখানে বিদেশফেরত প্রবাসীসহ শত শত যাত্রী দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো নৌযান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এদিকে কুমিরা ফেরিঘাটের ইজারাদার জানিয়েছেন, সাগরের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় নৌ চলাচল শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সমুদ্র এলাকায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সাধারণত ঝড়ো হাওয়া ও বিপজ্জনক সাগর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। এ সময় নৌ চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে নৌ পরিবহন বন্ধ রাখাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
স্থানীয়রা মনে করছেন, আবহাওয়ার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সন্দ্বীপসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জনজীবন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও বেশি ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সন্দ্বীপ–মূল ভূখণ্ড নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো উপকূলীয় অঞ্চল।