
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী তিস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, Bangladesh Water Development Board ইতোমধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
তিনি বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই নদী ভূ-প্রকৃতিগতভাবে একটি খরস্রোতা নদী, যা বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা ও নদী ভাঙনের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে, যা কৃষি ও জীবিকা নির্বাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলি প্রবাহিত হয়, যার ফলে তিস্তা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যায় এবং নদীটি একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।
সম্পন্ন হওয়া সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা নদীর প্রায় ১১০ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিং করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক করা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা-১ এলাকার নদী অংশও রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এই সমীক্ষার কারিগরি ও আর্থিক দিকগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ এখনো প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন বা বাস্তবায়ন পর্যায়ে যায়নি, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ধাপ।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ এবং জীবিকা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং নদীভাঙনও কমবে।
এদিকে সংসদে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় অধিবেশন পরিচালনা করেন স্পিকার Hafiz Uddin Ahmed। সকাল ১১টায় অধিবেশন শুরু হয় এবং নিয়মিত সংসদীয় কার্যক্রম চলতে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি নদী উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং এটি উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি ও পরিবেশ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত একটি বড় অবকাঠামো উদ্যোগ। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ও অর্থায়ন কাঠামো চূড়ান্ত হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সব মিলিয়ে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সমীক্ষা শেষ হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও বাস্তবায়নের জন্য এখনো আরও কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।