
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেই Pakistan ইরানের জন্য নতুন একটি বাণিজ্যিক করিডর চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে Iran তাদের পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলো ব্যবহার করতে পারবে।
নতুন নীতিমালার আওতায় ইরান এখন Karachi Port এবং Gwadar Port ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবে। পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটোরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬’-এর মাধ্যমে ছয়টি ট্রানজিট রুট উন্মুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বিশেষ করে Strait of Hormuz এলাকায় জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ইরানের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনেকটাই জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের নতুন করিডর ইরানের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নিজস্ব সমুদ্রবন্দর থাকলেও বর্তমান সংকটের কারণে সেগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে পাকিস্তানের মাধ্যমে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানি এবং আমদানি করা পণ্য দেশে আনার সুযোগ ইরানের অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ শুধু ইরানকেই সহায়তা করবে না, বরং পাকিস্তানকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগ জোরদার করার ক্ষেত্রে এই করিডর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তে Taftan border crossing, Gabd border crossing এবং মান্দ-পিশিনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পারাপার পয়েন্ট রয়েছে, যেগুলোকে নতুন করে সক্রিয় করা হচ্ছে।
যদিও United States ও পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন—ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বৈধ হতে পারে। কারণ এতে পাকিস্তান সরাসরি পণ্য কেনাবেচা করছে না, বরং কেবল পরিবহন সুবিধা দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাকিস্তান সম্ভবত সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের ওপর আরোপিত ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রচলিত বাণিজ্য পদ্ধতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে পণ্য বিনিময় বা বার্টার ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সীমিত বাণিজ্য চলমান ছিল, যা এখন নতুন করিডরের মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
এই করিডরের মাধ্যমে ইরান মূলত এমন পণ্য আমদানি-রপ্তানি করবে, যেগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না—যেমন খাদ্যপণ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের পেছনে কৌশলগত একটি দিকও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করলেও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সেই পথ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন বাণিজ্যপথ তৈরি করা পাকিস্তানের জন্য একটি বিকল্প কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের জন্য ট্রানজিট করিডর চালু করে পাকিস্তান একদিকে যেমন আঞ্চলিক বাণিজ্যে নিজের অবস্থান শক্ত করছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথও তৈরি করছে। তবে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে—তা সময়ই বলে দেবে।