
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে Bangladesh Meteorological Department। সংস্থাটি জানিয়েছে, অন্তত ছয়টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি বয়ে যেতে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদ Tariful Newaz Kabir স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, Rangpur, Dinajpur, Bogura, Mymensingh, Noakhali এবং Sylhet অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এই সংকেতের মাধ্যমে মাঝারি ধরনের ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়, যাতে নৌযানগুলো নিরাপদে অবস্থান নিতে পারে।
অন্যদিকে, সারাদেশের জন্য দেওয়া আরেকটি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে Rajshahi Division, Dhaka Division, Mymensingh Division, Khulna Division এবং Sylhet Division-এর অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া Rangpur Division, Barisal Division এবং Chittagong Division-এর কিছু কিছু জায়গায়ও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এই সময়ে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া একসঙ্গে বিরাজ করতে পারে, যা জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন আবহাওয়ায় বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। তাই খোলা স্থানে অবস্থান, বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া কিংবা নদীপথে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিরূপ আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস জনসাধারণকে সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে যারা নদীপথে চলাচল করেন বা খোলা জায়গায় কাজ করেন, তাদের জন্য এই সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।