
অস্ট্রেলিয়ার Adelaide শহরের Parafield Airport-এ অবতরণের সময় একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করছিল। এ সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি হ্যাঙ্গারের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পরপরই ঘটনাস্থলে কালো ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ দেখা যায়, যা দূর থেকে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। আশপাশের এলাকায় থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে আরও বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
এই দুর্ঘটনায় বিমানের চালক এবং এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া হ্যাঙ্গারের ভেতরে অবস্থান করা ১১ জন কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে চারজনকে Royal Adelaide Hospital এবং সাতজনকে Lyell McEwin Hospital-এ ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, আহতদের অনেকেই দগ্ধ হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনার পর Parafield Airport সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার পরিবহন নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত বিমানটি ছিল একটি Diamond DA42 মডেলের দ্বি-ইঞ্জিন বিশিষ্ট হালকা বিমান। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে রাজধানী Canberra এবং Brisbane থেকে বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা, ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবতরণের সময় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা পাইলট নিয়ন্ত্রণে সমস্যা থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো সম্ভব নয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরেই এটি Parafield Airport-এর দ্বিতীয় বিমান দুর্ঘটনা। এর আগে জানুয়ারিতে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলেও সে ঘটনায় পাইলট প্রাণে বেঁচে যান।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ও প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বিমান অবতরণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই দুর্ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।