
মুন্সীগঞ্জের Sirajdikhan উপজেলায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি মর্মান্তিক শিশুহত্যা এখন দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুটি ঘটনাই ছিল অত্যন্ত নৃশংস, কিন্তু এর পরবর্তী সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে স্পষ্ট বৈষম্য—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর Pallabi এলাকায়। ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় দ্রুতই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
অন্যদিকে, এর মাত্র চার দিন আগে একই উপজেলার খাসকান্দি মদিনা পাড়া গ্রামে ১০ বছর বয়সী শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত হিসেবে তার সৎ মামা রাজা মিয়াকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। কিন্তু এত বড় একটি ঘটনার পরও আছিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
এই দুই ঘটনার পর মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—একই ধরনের অপরাধ, একই এলাকার দুই শিশু, কিন্তু প্রতিক্রিয়ায় এত পার্থক্য কেন? স্থানীয়দের মতে, একটি ঘটনায় দেশ উত্তাল হলেও অন্য ঘটনায় প্রশাসন ও সমাজের নীরবতা উদ্বেগজনক।
এদিকে আছিয়া হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিহত শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছে, ডিএনএ টেস্ট করাতে গিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে অর্থ দাবি করা হচ্ছে। আছিয়ার বাবা, যিনি প্রবাসে ছিলেন, মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে দেশে ফিরে এসে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তার দাবি, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা Shah Ali-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্নভাবে টাকা দাবি করেন। এমনকি ডিএনএ টেস্টের জন্য গাড়ি ভাড়ার টাকাও চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আছিয়ার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই দুর্বল। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো টাকা চাওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি তার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি জানান, ঈদের ছুটির কারণে ডিএনএ টেস্টে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে এবং ছুটির পর দ্রুত তা সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে।
সিরাজদীখান থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ডিএনএ এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। তবে ঈদের ছুটির কারণে ল্যাব বন্ধ থাকায় কিছুটা সময় লাগছে।
সব মিলিয়ে, এই দুই ঘটনার পর সমাজে যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে, তা কেবল বিচারপ্রক্রিয়া নয়, বরং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলনও তুলে ধরে। কেন একটি ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, আর অন্যটি নীরবতায় চাপা পড়ে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সবাই।