
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মালেকের বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইমাদ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে চলছিল। পথে আরেকটি বাসকে সাইড দিতে গিয়ে বাসটির সামনের একটি টায়ার হঠাৎ ফেটে যায়।
টায়ার ফেটে যাওয়ার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়ে এবং অনেকেই গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশ সদস্যরা। স্থানীয় লোকজনও উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন। আহতদের বাস থেকে বের করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং অন্যদের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, অধিকাংশ আহত যাত্রী শারীরিক আঘাত পেলেও তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
এই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতি ও যান্ত্রিক ত্রুটিকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং নিয়মিত যানবাহনের যান্ত্রিক পরীক্ষা না করা—এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তাই তারা এই এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, গোপালগঞ্জের এই সড়ক দুর্ঘটনা আবারও দেশের মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাসগুলোর গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।