
বগুড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বালুভর্তি একটি ট্রাকের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে বগুড়া শহরের টিএমএসএস এলাকায় বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানটি চালানো হয় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. রবিউল ইসলাম (২৫)। তিনি দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মামুন আকন্দের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ১২টার দিকে টিএমএসএস ছমিল ও উডেন ফার্নিচার সেকশনের সামনে একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় রংপুর থেকে বগুড়াগামী একটি বালুভর্তি ট্রাককে সন্দেহের ভিত্তিতে থামানো হয়।
তল্লাশির সময় ট্রাকের ভেতরে থাকা বালুর নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা পাওয়া যায়। বস্তাগুলো খুলে দেখা যায়, সেখানে মোট ৮০ কেজি শুকনা গাঁজা রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, বালুর আড়ালে এই মাদক পরিবহনের চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে সহজে ধরা না পড়ে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তা ব্যর্থ করে দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করা হয়। বর্তমানে ট্রাকটি থানায় রাখা হয়েছে এবং এর মালিকানা ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার করা গাঁজার পরিমাণ প্রায় ৮০ কেজি, যা একটি বড় মাদকের চালান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই মাদকচক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক পাচারের উৎস, রুট এবং নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি সংগঠিত মাদক চক্রের অংশ হতে পারে, যারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় এভাবে মাদক সরবরাহ করে থাকে।
এ ধরনের ঘটনা শুধু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যই নয়, বরং তরুণ সমাজের জন্যও মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, নিয়মিত চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হলে মাদক পাচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, বগুড়ার এই অভিযান মাদকবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।