
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ভোরের আগে একাধিক এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কালকিলিয়া শহরের পূর্বাঞ্চলীয় কাফর কাদ্দুম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন ভাই এবং তাদের একজনের ছেলেকে আটক করা হয়। ভোরের এই অভিযানে হঠাৎ সেনা উপস্থিতিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একই সময়ে তুলকারেমের পূর্বাঞ্চলীয় ইকতাবা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সাবেক এক বন্দিসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, ভোররাতে বাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয় এবং পরে ওই ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া হয়।
এছাড়া হেবরন অঞ্চলের বেইত উম্মার এলাকায় কয়েকটি পাড়ায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে আরও আটজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শুধু আটক অভিযানই নয়, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রামাল্লাহর উত্তরে আতারা ও আইন সিনিয়া চেকপোস্ট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সড়কে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এতে শত শত গাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে।
এই সময় ইসরায়েলি বাহিনী টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচল আরও বিঘ্নিত হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে।
একই দিনে সিলওয়াদ এবং দেইর জারির এলাকার প্রবেশপথও দুই দিক থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ওইসব এলাকার মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে যায় এবং দৈনন্দিন চলাচলে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিম তীরে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান ও চেকপোস্ট কড়াকড়ির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বহুবার পশ্চিম তীরে আটক অভিযান ও চলাচল সীমিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে চলমান এই ধরনের সামরিক অভিযান অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোররাতের এই অভিযানে পশ্চিম তীর আবারও নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে আটক, অবরোধ ও সংঘাত পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।