
ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ থালাপতি বিজয়। বুধবার (২৭ মে) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী হয়।
বৈঠকে তিনি তামিলনাড়ুর স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল কর্ণাটকের প্রস্তাবিত মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্প, রাজ্য সংগীতের মর্যাদা এবং ঐতিহাসিক তাম্রফলক ফিরিয়ে আনার বিষয়।
বিজয় সম্প্রতি হল্যান্ড থেকে প্রাচীন তাম্রফলক ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এই উদ্যোগকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্প। কর্ণাটক সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে, যা কাবেরী নদীর উপর নির্মিত হওয়ার কথা। তবে তামিলনাড়ু মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ধরনের একতরফা প্রকল্প নিম্নপ্রবাহ অঞ্চলে পানির সরবরাহকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিজয় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলেন, কাবেরী পানি বণ্টন ট্রাইব্যুনাল এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মূল চেতনার সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বৈঠকে তিনি আরও একটি সাংস্কৃতিক বিষয় তুলে ধরেন। তা হলো সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে তামিলনাড়ুর রাজ্য সংগীত বাজানোর অনুমতি দেওয়া। বর্তমানে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান পরিবেশনের নিয়ম রয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় গান একসঙ্গে পরিবেশিত হলে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক পরিবেশন করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে বিজয় চান, তামিলনাড়ুর রাজ্য সংগীতও সরকারি অনুষ্ঠানে যথাযথ মর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত হোক।
বৈঠকে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং পানি বণ্টন ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নিম্নপ্রবাহ অঞ্চলের কৃষি ও পানির সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
চলতি মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল থালাপতি বিজয়ের প্রথম সরকারি দিল্লি সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে মোদি–বিজয় বৈঠকে তামিলনাড়ুর স্বার্থ, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং আন্তঃরাজ্য পানি বিরোধ—এই তিনটি বিষয়ই প্রধান আলোচ্য হিসেবে উঠে এসেছে।